প্যাপ স্মিয়ার কী, কেন করা হয় তার জন্য রয়েছে আলাদা আর্টিকেল। এখানে প্যাপ স্মিয়ারের ঠিক কোন রেজাল্ট হলে, পর পর কী করবেন, তা নিয়ে এই আর্টিকেল। শেষে আলোচনা করব—কেন শুধুমাত্র কাগজে ছাপা রিপোর্টকে পরম সত্য ধরে নেওয়ার ভুল করা উচিত নয়। তার ভেতরে অন্য কোনও সমস্যা থাকতে পারে কি না, কেন সেটাও খতিয়ে দেখা জরুরি।…
প্যাপ স্মিয়ার কী, কেন করা হয় তার জন্য রয়েছে আলাদা আর্টিকেল। এখানে প্যাপ স্মিয়ারের ঠিক কোন রেজাল্ট হলে, পর পর কী করবেন, তা নিয়ে এই আর্টিকেল।
শেষে আলোচনা করব—কেন শুধুমাত্র কাগজে ছাপা রিপোর্টকে পরম সত্য ধরে নেওয়ার ভুল করা উচিত নয়। তার ভেতরে অন্য কোনও সমস্যা থাকতে পারে কি না, কেন সেটাও খতিয়ে দেখা জরুরি। আর কেন পৃথিবীর উন্নত দেশের নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ারের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের করা প্যাপ স্মিয়ার রেজাল্টের কেন সরাসরি তুলনা চলবে না, সেটাও রয়েছে আজকের আর্টিকেলে।
আপনার বোঝার সুবিধার জন্য আমি এখানে মহিলাদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে বলবো। কারণ তিনটি গ্রুপের মহিলাদের আলাদা আলাদা ভাবে চিকিৎসা করা হয়।
গ্রুপ A: যারা ২৫ বছর বয়স থেকে প্রতি ৫ বছর অন্তর নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করে আসছেন। আপনি ইংল্যান্ড আমেরিকা অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা হলে আপনি এই গ্রুপে। ভারতের খুব কম মহিলা এই গ্রুপে আছেন । গ্রুপ B: যারা কোনও উপসর্গ ছাড়াই হঠাৎ চেকআপ বা প্যাকেজের মাধ্যমে প্যাপ স্মিয়ার করেছেন। গ্রুপ C: যারা আগে নিয়মিত টেস্ট করাননি, কিন্তু এখন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় প্যাপ স্মিয়ার করতে হয়েছে। এদের চিকিৎসা বেশ আলাদা।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ১ | NILM
নর্মাল রিপোর্ট-কে NILM অর্থাৎ Negative for Intraepithelial Lesion or Malignancy বলেও লেখা হয়।
NILM রিপোর্ট এলে কী করবেন?
বোঝার সুবিধার জন্য আমি এখানে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে বলবো।
গ্রুপ A: যদি আপনি ২৫ বছর বয়স থেকে প্রতি ৫ বছর অন্তর নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করিয়ে থাকেন এবং রিপোর্ট সবসময় নরমাল আসে, তবে চিন্তার কিছু নেই। আগের মতোই ৬৫ বছর পর্যন্ত নিয়মিত টেস্ট চালিয়ে যেতে হবে। গ্রুপ B: যদি কোনও উপসর্গ ছাড়াই প্যাপ স্মিয়ার করে থাকেন, যেমন স্বাস্থ্য-প্যাকেজ বা সাধারণ চেকআপের অংশ হিসেবে, এবং রিপোর্ট নরমাল আসে, তবে এটিও ভালো খবর। শুধু মনে রাখবেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করাতে হবে। গ্রুপ C: যদি উপসর্গ থাকার কারণে প্যাপ স্মিয়ার করা হয় এবং রিপোর্ট নরমাল আসে, তবুও সেটা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নাও হতে পারে। সার্ভিক্স বা ইউটেরাসের অন্য টেস্ট প্রয়োজন হতে পারে। সার্ভিক্স একবার অ্যাবনর্মাল হয়ে গেলে, প্যাপ স্মিয়ার মিথ্যে মিথ্যে নর্মাল রিপোর্ট দিতে পারে। কেন? প্যাপ স্মিয়ার পৃথিবীতে যখন শুরু হয়েছিল, তখন সিম্পটমহীন বা উপসর্গহীন সম্পূর্ণ সুস্থ মহিলাদের সার্ভিক্স -এর হেলথ চেক করার জন্য তৈরি হয়েছিল। তাই উপসর্গের ক্ষেত্রে নরমাল রিপোর্টের আড়ালেও সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে। আতঙ্কের কিছু নেই, তবে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুন।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ২ | Unsatisfactory Sample
অর্থাৎ রিপোর্ট সন্তোষজনক নয়। মাইক্রোস্কোপে দেখার মতো যথেষ্ট পরিমাণে কোষ পাওয়া যায়নি, যার ওপরে আপনার প্যাপ স্মিয়ার-এর রিপোর্ট লেখা হবে। কিন্তু কেন পাওয়া গেল না?
প্যাপ স্মিয়ার এর স্যাম্পল শরীর থেকে নেওয়া থেকে রিপোর্ট করা অনেকগুলো পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যায়। যেমন, সার্ভিক্স থেকে ভাসমান পলকা কোষগুলো তুলি দিয়ে তোলা, তারপর সেটিকে কাঁচের স্লাইড বা কেমিক্যাল লিকুইডের মধ্যে রেখে, ল্যাবরেটরীতে নিয়ে যাওয়া। এবং তারপরে নানা সূক্ষ্ম পরীক্ষার মাধ্যমে রিপোর্ট করা। unsatisfactory sample তখনই বলা হয় যখন, রিপোর্টের দিন যথেষ্ট পরিমাণে সার্ভিক্সের কোষ ডাক্তাররা মাইক্রোস্কোপের তলায় দেখতে পান না।
Unsatisfactory Sample রিপোর্ট এলে কী করবেন?
এক্ষেত্রে অতি অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দ্বিতীয়বার, প্যাপ স্মিয়ার করিয়ে নেওয়া উচিত।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ৩ | ASC-US
যার পুরো নাম Atypical Squamous Cells of Undetermined Significance। এ কথার অর্থ সার্ভিক্সের ভাসমান কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের তলায় ঠিকই দেখা গেছে। তবে, সার্ভিক্সের ওপরে আবরণী কোষ অর্থাৎ Squamous Cells-এর ধরনগুলো একটু অদ্ভুত বা Atypical। এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে, কোনও ইনফেকশন, ইনফ্লামেশন বা কখনও কখনও কিছু প্রি-ক্যান্সার কোষ।
যাদের গত কয়েক বছর Pap রিপোর্ট ভালো ছিলো, এই প্রথমে ASC-US রিপোর্ট এলো, তাদের বেশিরভাগ ASC-US রিপোর্ট, খুব বেশি সিরিয়াস সমস্যার দিকে নির্দেশ না করারই সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু সাবধান হতে হবে।
ASC-US রিপোর্ট এলে কী করবেন?
সাথে HPV বা ভাইরাস টেস্ট না হয়ে থাকলে, অতি অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে ভাইরাস টেস্ট করাবেন।
ভাইরাস টেস্ট যদি নেগেটিভ থাকে তাহলে, তিন মাস পর আবার প্যাপ স্মিয়ার করতে হয়, তখন দেখা যাবে কোষ স্বাভাবিক হয়েছে কিনা।
যদি আপনি গত কয়েক বছর নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার না করিয়ে থাকেন বা সিম্পটমের কারণে হঠাৎ প্যাপ স্মিয়ার করিয়েছেন তাহলে আপনার জন্য তিন মাস অপেক্ষা করে যাওয়া নিরাপদ নাও হতে পারে।
সে ক্ষেত্রে ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে কল্পোস্কোপি করে সার্ভিক্স ভালোভাবে পরীক্ষা করবেন। এই টেস্টে সার্ভিক্সকে ভালো করে দেখা যায়।
এ কোনও সার্জারি নয়। ভ্যাজাইনার অন্ধকার নলের ভেতরে উজ্জ্বল আলো ঢুকিয়ে, সার্ভিক্সকে বাইরে থেকে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখার নামই, Colposcopy। Colpos মানে সার্ভিক্স, Scopy মানে ক্যামেরা।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট 8 | ASC-H
এই কথার পুরো নাম Atypical Squamous Cells, cannot exclude High-grade Squamous Intraepithelial Lesion। এ কথার অর্থ, সার্ভিসের ওপরের আবরণী কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে, কিছু কিছু আবরণী কোষ অর্থাৎ Squamous Cells এর মধ্যে এমন কিছু চেঞ্জ এসেছে যা, প্রি-ক্যান্সার বা ক্যান্সারের দিকে নির্দেশ করছে। কিন্তু, শুধুমাত্র ওইটুকু স্যাম্পলে ফাইনাল ডায়াগনসিসে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
ASC-H রিপোর্ট এলে কী করবেন?
এক্ষেত্রে অতি অবশ্যই সাথে সাথে কল্পোস্কোপি করে দেখে নেওয়া দরকার। সার্ভিক্সে সত্যিই কোনও অ্যাবনর্মাল চেঞ্জ এসেছে কিনা।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ৫ | LSIL
LSIL বা (Low-grade SIL)
SIL কথাটির অর্থ Squamous Intraepithelial Lesions। SIL কথাটি এখানে বারবারই ফিরে ফিরে আসবে। সম্পূর্ণ ডাক্তারি এই পরিভাষার অর্থ, সার্ভিক্সের ওপরে আবরণী কোষ বা Squamous কোষের মধ্যে, ভাইরাস ইনফেকশনের কারণে কিছু চেঞ্জ হয়েছে।
LSIL রিপোর্ট এলে কী করবেন?
আপনি যদি সেই গ্রুপের মহিলা হন, যাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত গত কয়েক বছর ধরে, প্যাপ স্মিয়ার করে আসা হচ্ছে, তাহলে একবার LSIL রিপোর্ট এলে আপনাকে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবার প্যাপ স্মিয়ার করার কথা বলা হবে।
অল্প বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে, বেশিরভাগ সময়ই LSIL নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
আপনি যদি সেই গ্রুপের মহিলা হন, যাদের ক্ষেত্রে কোনও সিম্পটম আসার কারণে, প্যাপ স্মিয়ার করা হয়েছে অথচ আপনি নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করাননি এতদিন পর্যন্ত, তাহলে LSIL শুধুমাত্র অত মাস অপেক্ষা করে রেখে দেওয়া যায় না। এইবারই প্রয়োজন হতে পারে, কল্পোস্কোপি ধরনের পরীক্ষার।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ৬ | HSIL
HSIL বা (High-grade SIL)
এই কথাটির পুরো অর্থ High-grade Squamous Intraepithelial Lesions। এটি সার্ভিক্সের কোষে প্রি-ক্যান্সার পরিবর্তন, যা চিকিৎসা না করলে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
HSIL রিপোর্ট এলে কী করবেন?
নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার-এর ইতিহাস থাকলে: HSIL ধরা পড়লে কল্পোস্কোপি করে LEEP বা LLETZ প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা করা যায়। এতে সার্ভিক্স পুরো বাদ দিতে হয় না, আবার ভবিষ্যতে মা হওয়াও সম্ভব।
এক চিলতে সার্ভিক্স বাদ দেওয়ার নাম LEEP বা LLETZ – একেক দেশে এর একেক নাম। আপনি ইংল্যান্ডে থাকলে বেশিরভাগ সময় তাকে, LLETZ বলা হয়। এটা একটা অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক প্রসিডিওর, যেখানে আপনি দিনের দিনই বাড়ি ফিরে আসতে পারেন।
এদিকে আপনি যদি সেই গ্রুপের মহিলা হন, যাদের ক্ষেত্রে ২৫ বছর বয়স থেকে নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করিয়ে আসা হয়নি, হঠাৎ করে কোনো কারণে প্যাপ স্মিয়ার করা হয়েছে, তাহলে সে ক্ষেত্রে HSIL-এর ট্রিটমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা।
অনিয়মিত বা প্রথমবার প্যাপ স্মিয়ার করে HSIL রিপোর্ট এলে: প্রথমেই দেখতে হবে নেপথ্যে টিউমার তৈরি হয়েছে কিনা। এজন্য কল্পোস্কোপি, সার্ভিক্স বায়োপসি, প্রয়োজনে MRI জরুরি। আলট্রাসাউন্ড বা CT সবসময় সঠিক তথ্য দেয় না।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ৭ | AGC
রিপোর্ট AGC র অর্থ Atypical Glandular Cells,
এর অর্থ মাইক্রোস্কোপের নিচে সার্ভিক্সের আবরণী কোষ বা Squamous Cells-এর সাথে কিছু অদ্ভুত ধরনের গ্ল্যান্ড কোষ দেখতে পাওয়া গেছে। সার্ভিক্সের মধ্যে কোনও Glandular কোষ থাকে না।
তাহলে এই কোষ এলো কোথা থেকে?
তিনটি জায়গা থেকে আসতে পারে। সাধারণত, এটা সার্ভিক্সের ভেতরের লাইনিং বা Endocervix বা সরাসরি ইউটেরাস বা ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে খসে পড়া গ্ল্যান্ডের অংশবিশেষ হতে পারে।
AGC রিপোর্ট এলে কী করবেন?
এ ধরনের রিপোর্ট বেশ বিরল। এমন হলে সার্ভিক্স, ক্যানাল ও ইউটেরাস ক্যামেরা দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়। সেখানে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসা করা হয়। না ধরা পড়লে ক্ষেত্রবিশেষে ফ্যালোপিয়ান টিউবও পরীক্ষা করতে হতে পারে, যা সাধারণভাবে সম্ভব নয় এবং প্রায়শই অপারেশন প্রয়োজন হয়। তাই এমন রিপোর্ট এলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ সময়মতো চিকিৎসা করলে ফলাফল ভালো হয়।
প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট ৮ | CIS
কিছু কিছু সময় প্যাপ স্মিয়ার-এ ধরা পড়ে Carcinoma in situ (CIS) or Squamous Cell Carcinoma। এই ক্ষেত্রগুলোতে হয়তো সারভিক্সে প্রি-ক্যান্সার স্টেজের, অন্তিম পর্যায় শুরু হয়ে গেছে হয়েছে অথবা সার্ভিক্সে ক্যান্সারের তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
CIS রিপোর্ট এলে কী করবেন? অতি অবশ্যই এক সপ্তাহের মধ্যে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার স্পেশালিস্ট ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নেওয়া আশু প্রয়োজন। মনে রাখুন, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অর্থ চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেশি হওয়া অর্থাৎ আপনি সুস্থ শরীরে থাকবেন অনেক বছর।
এইতো গেল প্যাপ স্মিয়ার এর কত ধরনের রিপোর্ট হতে পারে। এবার,
কোন প্রবলেম থাকলে কী ধরনের প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট হবে
অর্থাৎ প্যাপ স্মিয়ারের রিপোর্ট দেখে প্রবলেম ধরার প্রক্রিয়া। এবার উল্টোটা। কোন প্রবলেম এলে কী ধরনের প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট এক্সপেক্ট করবেন।
সার্ভিক্স ক্যান্সার সাধারণত রাতারাতি তৈরি হয় না। সুনির্দিষ্ট তিন ধাপ প্রি-ক্যান্সার স্টেজ পেরিয়ে তারপরেই, ক্যান্সার তৈরি হয় সার্ভিক্সে। দুর্ভাগ্যবশত, এ প্রি-ক্যান্সার স্টেজগুলোর কোনোটাতেই কোনও সিম্পটম থাকে না। বোঝার উপায় সময় থাকতে প্যাপ স্মিয়ার করা। এই তিন ধাপ প্রি-ক্যান্সারের নাম CIN 1, CIN 2 এবং CIN 3
CIN কথাটির অর্থ Cervical Intraepithelial Neoplasia। অর্থাৎ যেখানে সার্ভিক্সের আবরণের ওপরে প্রি-ক্যান্সার চেঞ্জ তৈরি হয়েছে। নম্বর যত কম ততো প্রি-ক্যান্সার চেঞ্জ হালকা, নম্বর যত বেশি প্রি-ক্যান্সার চেঞ্জ তত ক্যান্সারের দিকে নির্দেশ করে।
তবে মনে রাখুন CIN 3 মানেও প্রি ক্যান্সার। ক্যান্সার হয়নি।
এর মধ্যে সাধারণত CIN 1 নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
যদিও খুব সরলীকরণ করে বলা উচিত হবে না। তবুও, বলা যায় CIN 1 বায়োপসির সমতুল প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট LSIL আর CIN 2 এবং CIN 3 বায়োপসির সমতুল প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্ট, HSIL
বায়োপসির সাথে প্যাপ স্মিয়ারের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, বায়োপসি অনেকখানি কোষ তুলে নিয়ে, মাইক্রোস্কোপের তলায় দেখতে পারে। বায়োপসি ডায়াগনসিস কনফার্ম করে। কিন্তু, প্যাপ স্মিয়ার শুধুমাত্র কোষের উপরে ভাসমান কিছু কোষ নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট দেয়, তাই প্যাপ স্মিয়ার কোনও বায়োপসি নয়। বায়োপসিতে খরচ এবং ঝামেলা বেশি বলে সবাইকে প্রথমেই বায়োপসি করা হয় না।
কিন্তু প্যাপ স্মিয়ার রিপোর্টের সাথে বায়োপসিতে সাধারণত কী রিপোর্ট ধরা পড়বে, সে ব্যাপারে ডাক্তাররা অনুমান করতে পারেন। যদিও আগেই বলেছি, প্রাথমিক প্যাপ স্মিয়ার-এর সামান্য কিছু পরিবর্তনে হলেই, সব সময় বায়োপসি করতে নাও হতে পারে।
নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার বনাম হঠাৎ প্যাপ স্মিয়ার
সার্ভিক্সে ক্যান্সার তৈরি হলে বা ইউটেরাসের ভেতরে সমস্যা থাকলে হঠাৎ করা প্যাপ স্মিয়ারের রিপোর্ট নরমাল আসতে পারে। পশ্চিমা দেশে যেহেতু নিয়মিতভাবে প্যাপ স্মিয়ার করা হয়, তাই সেখানে কোনও অস্বাভাবিক রিপোর্ট পেলে আগের ১০ থেকে ১৫ বছরের রেফারেন্স পাওয়া যায়। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে এখনও ২৫ বছর বয়স থেকে প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর অন্তর নিয়মিত টেস্ট করানো হয় না এবং অনেক মহিলাই বোঝেন না কেন সুস্থ অবস্থায় এ টেস্ট করাতে হবে। যদিও ধীরে ধীরে সচেতনতা বাড়ছে, তবুও সংখ্যা খুবই কম। প্যাপ স্মিয়ার আসলে একটি স্ক্রিনিং টেস্ট, যা শুধুমাত্র সুস্থ মহিলাদের ক্ষেত্রে করানো উচিত। তাই পাশ্চাত্যের রিপোর্টের সাথে এ অঞ্চলের রিপোর্ট সরাসরি তুলনা করা যায় না।
দ্বিতীয়ত,
মনে রাখা দরকার, কোনও উপসর্গ থাকলে প্যাপ স্মিয়ারের রিপোর্ট একা যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় অবশ্যই গাইনোকোলজিস্ট বা গাইনোকোলজিক্যাল অঙ্কোলজিস্টের কাছে রিপোর্ট দেখাতে হবে। কারণ প্যাপ স্মিয়ার মূলত সুস্থ এবং উপসর্গহীন মহিলাদের জন্য তৈরি স্ক্রিনিং টেস্ট। উপসর্গ থাকলে সঠিক নির্ণয়ের জন্য বায়োপসি প্রয়োজন, কারণ অনেক সময় নরমাল রিপোর্টের আড়ালে প্রকৃত সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে।
তাই নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার করুন আর সাথে বয়স থাকলে নিন HPV ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিনের লিঙ্ক রইল নিচে।

